Breaking News
Home / বিশেষ প্রতিবেদন / মাধ্যমিক পর্যায়ে স্কুল শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ছে?

মাধ্যমিক পর্যায়ে স্কুল শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ছে?

দেশে স্কুলে ভর্তির হার শতভাগ হলেও মাধ্যমিক পর্যায়ে এসে ঝরে পড়ছে শিক্ষার্থীরা।

এক সমীক্ষা বলছে, মাধ্যমিক পর্যায়ে ৪১ ভাগ মেয়ে শিক্ষার্থী এবং ৩৩ ভাগ ছেলে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে।

সেভ দ্য চিলড্রেনসহ শিশুদের নিয়ে কাজ করা ছয়টি আন্তর্জাতিক সংস্থা রাজধানীতে শিশু অধিকার বিষয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। যাতে উঠে এসেছে এই তথ্য।

এই প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, স্কুল থেকে ঝরে পড়া এই শিশুরাই আসলে সব চেয়ে বেশি অধিকার বঞ্চিত হয়।

মানিকগঞ্জের মান্তা গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম। নবম শ্রেণী পর আর পড়াশুনা করেননি তিনি।

চেষ্টা করেছিলেন শ্রমিক হিসেবে বিদেশে পাড়ি জমানোর।

কিন্তু সেটিও না হওয়ায় এখন স্থানীয় একটি বাজারে দোকান খুলেছেন শাহিন।

তিনি জানান, পরিবার থেকে বার বার পড়াশুনা করতে বলা হলেও, বয়সে ছোটদের সাথে পড়তে হবে বলে তা আর চালিয়ে যাননি তিনি।

শাহিন বলেন, “আমাদের ব্যাচে আমরা যারা ছিলাম প্রায় সবাই আমার থেকে উপরে চলে গেলো। পরে আর স্কুল ভাল লাগলো না।”

শিশুদের ঝরে পড়ার পেছনে নানা কারণ রয়েছে। তবে এর মধ্যে আর্থিক কারণই সব চেয়ে বড়।

সেভ দ্য চিলড্রেনের কর্মকর্তা রাশেদা আক্তার বলেন, “অনেক বাবা-মা থাকে যারা ভাবে যে, স্কুলে দিয়ে কি হবে, তার চেয়ে কাজ করে কিছু উপার্জন করুক। আর এ চিন্তা থেকেই বাচ্চাদের স্কুলে দেয় না তারা।”

তিনি বলেন, অনেক সময় শিশুরা বোঝে না যে মাধ্যমিক পড়াশুনা শেষে তারা কি করবে। তাদের সামনে আর কোন লক্ষ্য থাকে না। তাই পড়াশুনার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে তারা।

মেয়ে শিশুদের বেলায়, স্কুলে যাওয়া আসার পথে হয়রানির শিকার হওয়ার ঘটনা ঝরে পড়াকে ত্বরান্বিত করে।

বাবা-মায়েরা মেয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে তাকে বাল্যবিয়ে দিয়ে থাকেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ঝরে পড়া এসব শিশুরা বয়সে কিশোর হওয়ায় সেসময় তাদের মানসিক ও শারীরিক পরিবর্তন আসে।

নির্দিষ্ট কোন গাইডলাইন না থাকায় তারা বিভিন্ন ধরণের অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ে তারা।

যার বড় উদাহরণ, সম্প্রতি রাজধানীসহ সারা দেশে বেড়ে ওঠা কিশোর গ্যাং।

রাশেদা আক্তার বলেন, স্কুলে ঝরে পড়া ঠেকাতে কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি বলেন, “সবার জন্য উচ্চ শিক্ষার দরকার নেই। একটা নির্দিষ্ট পর্যায় পর্যন্ত পড়াশুনা করে তারা যাতে কাজে ঢুকে যেতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।”

মেয়ে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাবা-মায়ের পাশাপাশি, স্কুলের শিক্ষক, স্থানীয় বাসিন্দাসহ সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

সেভ দ্য চিলড্রেনের কর্মকর্তা রাশেদা আক্তার বলেন, সর্বোপরি বাবা-মাকে বুঝতে হবে যে, ছেলে আর মেয়ে শিশুদের মধ্যে পার্থক্য করার কিছু নেই।

তবে, শিক্ষা ছাড়াও শিশু অধিকারের অন্যান্য বিষয় যেমন শিশুশ্রম ও শিশু পাচার বন্ধ, শিশু স্বাস্থ্য, নবজাতকের মৃত্যুহারের মতো ক্ষেত্রগুলোতে এখনো প্রত্যাশিত উন্নয়ন আসেনি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষনিকভাবে কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।

About admin

Check Also

প্রতিদিন ১ কেজি কাদা না খেলে ঘুম আসে না ১০০ বছর বয়সী এই বৃদ্ধের

কারু পাসওয়ান, বয়স একশ। ভারতের ২৮তম প্রদেশ ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জের বাসিন্দা। ১৯১৯ সালে জন্ম হয় তার। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *